দুই দফা মোবাইল কোর্ট, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ তারপরও নির্মাণকাজ বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদিত নকশা ও ভবন নির্মাণের শর্ত লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিন গংয়ের বিরুদ্ধে। সতীশ সরকার রোডের ১৪ ও ১৪/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির সামনের অংশ ১৪ তলা এবং পেছনের অংশ ১৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির অনুমোদিত নকশা ১০ তলার হলেও বাস্তব নির্মাণে একাধিক তলার ব্যত্যয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম দফায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ এবং একটি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ব্যত্যয় অপসারণ না করেই পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আরও দুটি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ ও ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ করা হয়।
দুই দফা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ভবনটির নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত অংশের পূর্ণাঙ্গ অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নকশা ১০ তলার, নির্মাণে ১৪ থেকে ১৬ তলার অভিযোগ
ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ভবনের নিরাপত্তা, কাঠামোগত সক্ষমতা, অগ্নিনিরাপত্তা, প্রতিবেশী স্থাপনার সুরক্ষা এবং নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয়ে থাকলে তা কীভাবে হয়েছে, নির্মাণের কোন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শনাক্ত করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি।
প্রথম মোবাইল কোর্ট: পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও মিটার জব্দ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভবনটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে একটি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানেও আংশিক অপসারণ, জব্দ আরও দুটি মিটার
প্রথম অভিযানের পর ব্যত্যয় অপসারণ না করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একই ভবনে দ্বিতীয় দফায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এ সময় আরও দুটি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করে ডিপিডিসির প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি ভবনের ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিক অপসারণ করা হয়।
একই ভবনে দুই দফা অভিযান পরিচালনার পরও যদি অনুমোদনবহির্ভূত অংশ থেকে যায়, তাহলে শুধু আংশিক অপসারণ ও মিটার জব্দের মাধ্যমে কতটা আইনগত নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়েছে, ইমারত পরিদর্শক দায়িত্ব কতব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্নের মুখে নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা
রাজউকের দায়িত্ব শুধু অবৈধ নির্মাণ শনাক্ত করা নয়; অনুমোদিত নকশা অনুসরণ নিশ্চিত করা, নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং আদেশ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করাও এর দায়িত্বের অংশ। কোনো ভবনে অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে একই অনিয়ম অব্যাহত থাকলে নজরদারি ও আদেশ বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
বিস্তারিত আসছে আগামী পর্বে…..